Your Title Goes Here

Your content goes here. Edit or remove this text inline or in the module Content settings. You can also style every aspect of this content in the module Design settings and even apply custom CSS to this text in the module Advanced settings.

Your Title Goes Here

Your content goes here. Edit or remove this text inline or in the module Content settings. You can also style every aspect of this content in the module Design settings and even apply custom CSS to this text in the module Advanced settings.

Your Title Goes Here

Your content goes here. Edit or remove this text inline or in the module Content settings. You can also style every aspect of this content in the module Design settings and even apply custom CSS to this text in the module Advanced settings.

ABOUT US

ABOUT US

Your content goes here. Edit or remove this text inline or in the module Content settings. You can also style every aspect of this content in the module Design settings and even apply custom CSS to this text in the module Advanced settings.

ABOUT US

Your content goes here. Edit or remove this text inline or in the module Content settings. You can also style every aspect of this content in the module Design settings and even apply custom CSS to this text in the module Advanced settings.

%

HTML

%

CSS

%

JS

%

PHP

SMS

নিজের জন্য একটা দিন

সপ্তাহে একদিন, মাসে অন্ততঃ দুইদিন কি নিজের জন্য রাখা যায় না? স্রেফ নিজের জন্য। সেদিন টিভি দেখলা না, ফেইসবুকিং করলা না, বাইরে ঘুরাঘুরি-আড্ডা দিলা না। কেউ দেখা করতে চাইলে তাকে শরীর খারাপ কিংবা দেশ থেকে চাচা আসছে- চাচাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে বলে- দেখা করলা না। দিনের প্রায় সবটুকু সময় নিজের জন্য রাখবা। আর এই দিনকে বলবা- আত্নদিবস।

প্রত্যেকটা আত্নদিবস কিভাবে উদযাপন করবা সেটা আগে থেকে ঠিক করে রাখবা। এমন কিছু একটা করবা, যেটা অনেকদিন ধরে করতে চাইতেছো কিন্তু করা হয়ে উঠতেছে না। এমন কিছু একটা শিখলা, যেটা অনেক দিন ধরে শিখবো শিখবো করে আশা করতেছো কিন্তু পড়াশুনার ঠেলায়, ফাঁকিবাজির মেলায় করা হয়ে উঠতেছে না। সেটা হতে পারে গিটারের কর্ড ধরতে শিখা, ক্যামেরার অপশনগুলা গুঁতায় গাতায় দেখা, পত্রিকায় আর্টিকেল লেখা, ফটোশপ বা কোন সফটওয়্যার বা প্রোগ্রামিং এর একটা বাংলা বই নিয়ে দেখে দেখে ১০০ পাতা পর্যন্ত যা যা করতে বলছে তা তা করে ফেলা, কিংবা প্রিয় মানুষটাকে মুগ্ধ করার জন্য তাকে নিয়ে কোন হেব্বি রোমান্টিক একটা গান লিখে ফেলা। জাস্ট একটা দিনই তো। সেদিন অন্যদের সাথে একটু কম মজা করে নিজের ইচ্ছা পূরণের আনন্দ করলা।

স্টুডেন্ট লাইফে কয়েকদিন পরপর আত্নদিবস পালন করতে পারলে, খুব সহজেই ৯৫% পোলাপানরে পিছনে ফেলে দিতে পারবে। মনে রাখবা, পাশ করে গেলে চাকরির প্রেসারে, বিয়ে করলে সংসারের চাপে, পোলা-মাইয়া পয়দা হইলে তাগো ক্যাচালে, নিজের ইচ্ছা- নিজের স্বপ্নের অনেক কিছুই হারিয়ে যাবে। তখন যাতে- আফসোস না থাকে সেই জন্যই আত্নদিবস।

আত্নদিবসের আউটকাম হবে- ফিউচারের আফসোস বাক্স খালি রাখা। যাতে বুড়া বয়সে বলা না লাগে- আরেকটু সময় দিলে টপ লেভেলের এথলেট হতে পারতাম, রেগুলার প্রাকটিস করতে পারলে হয়তো টিভিতে গান গাইতে পারতাম। ওদের মতো পড়ালেখা করলে আমিও হায়ার স্টাডির জন্য দেশের বাইরে যেতে পারতাম। কিংবা সময়মতো শুরু করলে হয়তো বিসিএসে চান্স পেয়ে যেতাম।

আত্নদিবসের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, নিজের সখ- স্বপ্ন, ইচ্ছা, আশাটাকে হাতের নাগালে আনার জন্য ডিডিকেটেড সময় ইনভেস্ট করা। পুরা একদিন ম্যানেজ করতে না পারলে অর্ধেক অর্ধেক করে দুই দিন মিলিয়ে একটা আত্নদিবস সেট করো। প্রয়োজন হলে তিন ঘন্টা তিন ঘন্টা করে আত্নদিবস পালন করো। তারপরেও আত্নদিবস পালন করতে হবে। কারণ আত্নদিবস পালন না করলে- তুমি আর তুমি হয়ে উঠতে পারবে না।

পারফেক্ট টাইম- পারফেক্ট কন্ডিশন

একটা পাকা আম, এক সপ্তাহ পরে খাবেন মনে করে আলমারিতে উঠায় রাখলে, এক সপ্তাহ পরে, আম খাওয়ার মজাতো পাবেনই না বরং পচা গন্ধে পেট খারাপ হয়ে যাবে। একইভাবে, এক দেড় ঘন্টা সময় পাইলে, নিজের স্বপ্নটাকে আলমারিতে তুলে রেখে, ফেইসবুকিং করতে থাকলে, ধীরে ধীরে আপনার স্বপ্নটাতেও পচন ধরে যাবে। প্রিমিয়ার লীগের খেলা, লম্বা লম্বা সিরিয়ালের সিজনগুলা এক একটা প্লাস্টিকের ফুলের মতন। কখনোই বিমলিন হয় না। জিদান গেলে, রোনালদো আসে। রোনালদো গেলে, মেসি আসে। মেসি গেলে অন্য আরেকজন আসবে। কিন্তু আপনার জীবন থেকে যে সময় চলে যাচ্ছে, তা আর ফেরৎ আসবে না। আপনার সময় গুলো তাজা গোলাপের মত, ঠিক সময়ে ফুলের ঘ্রাণ না নিলে, সঠিক সময়ে সঠিকভাবে কাজে না লাগালে, ফুল ঠিকই ঝড়ে যাবে। হারিয়ে যাবে।

দুনিয়ার কোথাও না কোথাও, কিছু না কিছু ইন্টারেস্টিং ঘটনা সবসময়ই ঘটতে থাকবে। তার সাথে সাথে থাকবে, এই ওয়ার্ল্ড-কাপ, সেই ওয়ার্ল্ড-কাপ, এই সিরিজ, ওই সিরিজ, এই ওপেন, সেই ওপেন, এই সিনেমা, ওই সিনেমা। এইগুলা এমনভাবে সেট করবে যাতে সারা বছর একটা না একটা কিছু দিয়ে আপনার মনোযোগ আটকায় রাখতে পারে। তার ফাকে ফাকে আসবে সেমিস্টার ফাইনাল, প্রজেক্টের ডেডলাইন, বিয়ের প্রেসার। চিন্তা করে দেখলে হয়তো মনে হবে, এত কিছুর মাঝখানে নিজের জন্য, নিজের স্বপ্নের জন্য কোন টাইম নাই। আসলেই নাই। কারণ, সব টাইমতো ফেইসবুক, প্রিমিয়ার লীগ আর টিভি সিরিয়ালরে দিয়া দিছেন। সেগুলা কমায় দিয়ে ডেইলি এক-দেড় ঘন্টা সময় বের করে, নিজের স্বপ্নের তাজা গোলাপের গন্ধ নিলে, ফুলে ফুলে আপনার জীবন ভরে উঠবে।

শুনেন, কোন কিছু করার জন্য পারফেক্ট টাইম, পারফেক্ট সুবিধা, পারফেক্ট ফ্যামিলি কন্ডিশন কোনদিনও কেউ পায় নাই, আপনিও পাবেন না। আর স্বপ্নের জন্য সাধনা না করে, হাত পা ঘুটিয়ে যত বেশি চিন্তা করবেন, স্বপ্নটা তত বেশি কঠিন মনে হবে।

সো, জাস্ট ডু ইট।

সময় ও প্রেম কারো জন্য অপেক্ষা করে না

কবি বলেছেন, “সময় ও প্রেম কারো জন্য অপেক্ষা করে না।” কবি আরো বলেছেন, “সুযোগ ও সফলতা কারো দরজায় টোকা মারে না।” তাই, প্রেম করতে চাইলে প্রেমিকারে টোকা মারুন। আর সফল হইতে চাইলে লক্ষ্যের পিছনে লেগে থাকুন। রাতভর চেষ্টার সাথে টাঙ্কি মারুন। তবে, প্রেম করা চাট্টিখানি কথা না। আবার প্রেম করা দুই এক ঘন্টার ব্যাপারও না। বিশ পঁচিশ মিনিট প্রেমিকার সাথে গুছুর গুছুর করার পরে ছয় মাস ফোন না দিলে, ম্যাসেজে নক না করে খালি বার্থডে তে উইশ করলে, প্রেম তো হবেই না বরং প্রিয়জন অন্য কারো প্রিয় হয়ে যাবে। জান পাখি ফুড়ুৎ করে উড়ে গিয়ে অন্যের ঢালে বাসা বাধবে।

একইভাবে, স্বপ্ন বা লক্ষ্যের কথা ছয় মাসে একবার ঢেকুর তুলে, সারাদিন খেলা-ফেইসবুক-রাজনীতি নিয়ে আড্ডায় মেতে থাকলে, স্বপ্ন আপনার না হয়ে, অন্য কারো হয়ে যাবে। দুই একটা সুযোগ দরজা-জানালার ফাঁক দিয়ে এসে ক্ষণিকের জন্য চুল্কানি দিলেও, আপনি টের পাবেন না। কারণ স্বপ্নের ব্যাপারে আপনি কেয়ারফুল ছিলেন না। ডেডিকেটেড ছিলেন না। আসলে স্বপ্ন দেখে কেউ সফল হতে পারে না। সফল হতে হলে চেষ্টা করতে হবে। চেষ্টার পিছনে সময় দিতে হবে। সময় নিয়ে সাধনা করতে হবে।

একটু চিন্তা করে দেখেন তো, দিনের মধ্যে কয়টা কাজ করেন যেগুলা আপনার লক্ষ্য পূরণ করতে সহায়তা করবে। আপনাকে এগিয়ে নিবে। একটাও না। কারণ আপনি স্বপ্ন দেখেন, আশা করেন, সুখ চিন্তা করেন কিন্তু অর্জনের জন্য চেষ্টা করেন না। মরিয়া হয়ে উঠেন না। লক্ষ্যটাই জীবনের একমাত্র কাজ, একমাত্র পথ, একমাত্র অবলম্বন হিসেবে চিন্তা করেন না। তাই, স্বপ্ন বুক পকেটে থেকেই পঁচতে থাকে। হারিয়ে যায় অন্য সব কাজের ভিড়ে। আর তিন বছর পরে একবার মনে পড়লে, আফসোস করে বলেন, “আশা ছিলো কিন্তু সুযোগ পাইনি”। আসলে, যে সুযোগের আশায় বসে থাকে, সুযোগ কোনদিনও তার কাছে আসে না। আর যে লক্ষ্য ঠিক রেখে লাগাতার লাথি-উষ্ঠা খেয়েও, চেষ্টা-সাধনা চালাতে থাকে, সে ঠিকই সুযোগ খুঁজে বের করে, পর্বতের চূড়া কিংবা সমুদ্রের তলা থেকে।

গতকালের ঝামেলা ও আজকের খারাপ লাগা

গতকাল রাত্রে যত ভালো বা যত খারাপ খাওয়া দাওয়া করেন না কেনো, আজকের পর সেগুলা আর শরীরে ধরে রাখতে পারবেন না। সব সুড়সুড়ি দিয়ে বেরিয়ে যাবে। পেটের খাবার বের করার সাথে সাথে মাথা থেকে কালকের হতাশা, কালকের ব্যর্থতা, কালকের খারাপ লাগাগুলাকেও বের করে দিতে হবে। গতকালের ঘটনা, গত সেমিস্টারের রেজাল্ট, গত বছরের ব্যর্থতার কথা চিন্তা করে আজকের দিনটাকে নষ্ট করার কোন মানে হয় না। আপনি চাইলে গতকালকে ফিরে গিয়ে গতকালের কাজটা আরেকটু ভালো ভাবে, আরো বেশি যত্ন সহকারে করে আসতে পারেন না। তবে আপনি চাইলে, আজকে যে কাজটা করতেছেন সেটা আরো যত্ন দিয়ে আরো ভালোভাবে করতে পারেন।

কালকের ঘটনা, কালকের খাতায় জমা থাকুক। আজকের দিনটা চলুক, আজকের দিনটাকে রাঙিয়ে দিতে। আগামী দিনটাকে আরো উজ্জ্বল করে তুলতে।

উঠতি বয়সীদের ১১টি সমস্যা ও সমাধান

সমস্যা:আমি, মানুষের সাথে মিশতে পারি না। এজন্য সবসময় মন খারাপ থাকে।

আমার উত্তর:ধরলাম তুমি মানুষের সাথে মিশতে পারো না দেখে চুপচাপ বাসায় বসে থাকো। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাসায় বসে বসে কি করো? ভালো করে পড়ালেখা করো? নতুন কিছু শিখো? কোন স্পেশাল স্কিল ডেভেলপ করো? করো টা কি? আসলে মানুষের সাথে মিশতে না পারা সমস্যা না। বরং কিছু না করে বাসায় চুপচাপ বসে থাকাটা সমস্যা। সো, অজুহাত দেখিয়ে চুপচাপ বসে না থেকে সময়গুলো কাজে লাগাও। তাহলেই মিশতে না পারা মানুষটাই জীবনে সফল হয়ে যাবে।

সমস্যা:আমি খুবই হতাশ। এই সাবজেক্টে, এই ভার্সিটিতে পড়ে কি হবে? আমার ড্রিম ছিলো মেডিকেল বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট।

আমার উত্তর:শুনো, হতাশ হওয়া খুবই সোজা। হতাশ হওয়ার জন্য কিছুই করা লাগে না। খালি বসে বসে চিন্তা করলেই হতাশ হওয়া যায়। কিন্তু কোন কিছু করে দেখাতে, কোন কিছু অর্জন করতে কষ্ট করা লাগে। দিনের পর দিন মাসের পর মাস, আরাম আয়েশ ভুলে লেগে থাকা লাগে। হোঁচট খেয়ে খেয়ে উঠে দাঁড়ানোর ইচ্ছা রাখা লাগে। সেই লেভেলের চেষ্টা নিচে মাঠে নামলে তোমার ভার্সিটি, তোমার সাবজেক্ট কোন কিছুই, তোমার ফিউচারের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। আসলে তোমার ফিউচারের জন্য একমাত্র বাধা হচ্ছ তুমি। তাই তোমার চিন্তাভাবনা বন্ধ রেখে কোন কিছু একটা করার চেষ্টা করো। তাহলেই সব লাইনে চলে আসবে।

সমস্যা:আমি সেকেন্ড বা থার্ড বা ফার্স্ট ইয়ারে পড়তেছি। এখন থেকে কিভাবে পড়লে বিসিএস এ টিকতে পারবো?

আমার উত্তর:আমার মতে, ক্লাসের পড়া বাদ দিয়ে বিসিএস এর প্রিপারেশন নেয়া বোকামি। কারণ যে ক্লাসের পড়া সিরিয়াসলি পড়তে পারে, সে পাশ করার পরে বিসিএস এর প্রিপারেশনও সিরিয়াসলি নিতে পারবে। আর যে ফার্স্ট, সেকেন্ড বা থার্ড ইয়ারে এইসব নিয়ে লাফালাফি করে, সে ফাইনাল ইয়ারে উঠার আগেই, আমার দ্বারা হবে না বলে উল্টা রাস্তায় পালায়। তবে বেশি চুলকানি হলে, ক্লাসের পড়া ঠিক রেখে টিউশনি করে ক্লাস সেভেন, এইট, নাইনের অংকগুলি প্র্যাকটিসে রাখো। নিয়মিত পত্রিকায় চোখ রাখো। পরীক্ষার পরে, ক্লাস শুরুর আগের অবসর সময়ে বাজার থাকে যেকোন একটা গাইড বই এনে খুলে দেখো। (সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: পরামর্শদাতা জীবনে কোনদিন বিসিএস পরীক্ষা দেয়া তো দূরের কথা, কোন গাইড বইও খুলে দেখেনি)

সমস্যা:হায়ার স্টাডি করতে চাই। যদিও আমার রেজাল্ট খুবই খারাপ ৩ বা ৩.২ এর নিচে।

আমার উত্তর:সত্যি কথা বললে- হায়ার স্টাডি তোমার মতো ফাঁকিবাজদের জন্য না। তোমার এই কন্ডিশন বা এই লাইফ স্টাইল দিয়ে হায়ার স্টাডি কোনদিনও করতে পারবা না। হয় তোমার লাইফ-স্টাইল চেইঞ্জ করো। যে কয়টা সেমিস্টার বাকি আছে, সেগুলাতে ৩.৭ এর বেশি তোলার চেষ্টা করো। পাশ করার পরে GRE, TOEFL বা IELTS খুবই সিরিয়াসলি দিয়ে ভালো স্কোর তোলো। তাহলে হালকা কিছু আশা করা যেতে পারে। বাই দ্য ওয়ে, If you want to change your life, don’t wait for a miracle. Create a miracle.

সমস্যা:ফিউচার নিয়ে খুবই কনফিউজড। বিসিএস দিবো, নাকি দেশের বাইরে যাবো? ব্যাংকে ট্রাই করবো, নাকি ফ্রিলাঞ্চিং শিখার চেষ্টা করবো?

আমার উত্তর:শুনো, আজ থেকে দশ বছর পরে তুমি বিসিএস ক্যাডার, সরকারি চাকুরী, বিজনেসম্যান, যাই করো না কোনো। যে কোন একটা তো করবা? দুই বা চারটা লাইনে-তো আর যাইতে পারবা না? সো, শুধুমাত্র একটা জিনিসে টার্গেট সেট করো। অন্য কিছুতে অন্য কেউ দুনিয়া উল্টায় ফেলুক- তুমি যে টার্গেট সেট করছো সেটার শেষ দেখা না পর্যন্ত অন্য কোন লাইন সম্পর্কে চিন্তা করবা না। ফোকাসড থাকতে হবে। যেকোন একটা লাইনে শুরু করলে সেটার শেষ পর্যন্ত দেখে ছাড়তে হবে। এই-লাইনে দুই দিন, ঐ লাইনে দুই দিন ঠুসা মারলে তোমার কপাল ফাঁটা ছাড়া আর কোন লাভ হবে না। আর মনে রাখবা- ক্যারিয়ারে খিচুড়ি বলতে কিছু নাই।

সমস্যা:আমার পড়া মনে থাকে না। আমি মানুষের সামনে কথা বলতে পারি না। কমিউনিকেশন স্কিল খারাপ।

আমার উত্তর:ধরলাম তোমার পড়া মনে থাকে না। তাহলে তুমি কি সব সাবজেক্টেই ফেল করো? সব ভাইবাতেই শূন্য মার্কস পাও? না পাও না। তাহলে তোমার যে কিছুই মনে থাকে না এই কথা সত্য না। হয়তো সব কিছু মনে থাকে না। অল্প কিছু মনে থাকে। আবার প্রেজেন্টেশন স্কিলের দিকে দিয়ে তুমি হয়তো এভারেজ। ক্লাসের সবচাইতে খারাপ না। তাছাড়া তোমার কমিউনিকেশন স্কিল একদম না থাকলে, তুমি আমার সাথে কথা বলতেই পারতা না। সো, আজাইরা টেনশন না করে- প্রেজেন্টেশন আগে বাসায় পাঁচবার প্রাকটিস করে যাবা। পরীক্ষার আগে নিজে নিজে না দেখে দেখে খাতায় উত্তর লিখবা। দরকার হলে নিজে নিজে মডেল টেস্ট দিবা। তাহলে একটু একটু করে অবস্থার উন্নতি হবে।

সমস্যা:এইখানে ভর্তি হয়ে থাকলাম। সেকেন্ড টাইম ভালো করে এডমিশন টেস্ট দিবো।

আমার উত্তর:শুনো, ভর্তি হয়ে আছো ভালো কথা। কিন্তু এইখানে ক্লাস করে আবার সেকেন্ড টাইম ভালো করে এডমিশন টেস্ট দেয়ার চিন্তা করলে। কোনটাই ঠিক মতো হবে না। বরং এইখানের রেজাল্টও খারাপ হবে। দুই এক সাবজেক্টে ফেল করে বসতেও পারো। আবার এইখানে ক্লাস-পড়ালেখা কোন রকমে করে সেকেন্ড টাইম ট্রাই করতে গেলেও ৯০% শিউর সেকেন্ড টাইমও কোথাও চান্স পাবা না। হয়- ভর্তি রেখে, শুধু এডমিশন টেস্টের জন্য সিরিয়াসলি পড়ো। অথবা সেকেন্ড টাইম এডমিশন টেস্ট দেয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে এইখানে ভালো করে পড়ার চেষ্টা করো। এইখান থেকে অনেক ভালো কিছু করা সম্ভব। এডমিশন টেস্ট জীবনের শেষ খেলা না। আরো অনেক খেলা বাকি আছে।

সমস্যা:কখনোই খারাপ স্টুডেন্ট ছিলাম না। ssc, hsc দুইটাই গোল্ডেন। কিন্তু না পাইছি পছন্দের ভার্সিটি, না পাইছি পছন্দের সাবজেক্ট। এগুলা নিয়ে খুবই হতাশ।

আমার উত্তর:শুধু গোল্ডেনের জন্য পড়লে আগে যত ভালো স্টুডেন্টই থাকো না কোনো, ভর্তি পরীক্ষায় বাঁশ খাবা সেটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া তখন হয়তো তোমার কলেজের ৪০-৫০ জনের মধ্যে তুমি ভালো স্টুডেন্ট ছিলা। এখন দেশের লাখ লাখ স্টুডেন্টের সাথে তোমার কম্পিটিশন। তাই এখন যেখানে গেছো, যাদের সাথে আছো, সেটাই তোমার বাস্তবতা। বাস্তবতাকে যত দ্রুত মেনে নিয়ে, এই পজিশন থেকে ভালো করার চেষ্টায় ঝাঁপিয়ে পড়বে তোমার জন্য তত মঙ্গল হবে। নচেৎ এখন যেখানে গেছো, সেখানকার এভারেজ পোলাপানের চাইতেও তোমার অবস্থা আরো খারাপ হবে। গ্যারান্টি।

সমস্যা:আমার তো কম্পিউটার সায়েন্সের ডিগ্রি নাই। আমি কি বাইরের ক্লায়েন্টের কাজ করতে পারবো। বাইরের কোম্পানি আমাকে ফুল টাইম হায়ার করবে?

আমার উত্তর:ফেইসবুকে হাসিন হায়দার, রাসেল আহমেদ এর নাম শুনছো? উনাদের কারোরই কম্পিউটার সায়েন্সের ডিগ্রি নাই। আসলে অফিসিয়াল সার্টিফিকেটের চাইতে তোমার কাজ, তোমার স্কিলই তোমার সবচেয়ে বড় সার্টিফিকেট। এমন অনেকের সাথে কথা বলেছি যাদের প্রফেশনাল লেভেলে কাজ করতেছে, যারা কম্পিউটার সায়েন্স পড়াতো দূরেই থাক, এখনো পড়ালেখাই শেষ করে নাই। সো, কাজের পাশাপাশি নতুন কিছু শেখার জন্য এক্সট্রা টাইম দিতে থাকো। প্রাকটিস করতে থাকো। চেষ্টার লাগাম ধরে রাখো। তাহলে কোন কিছুই তোমাকে আটকে রাখতে পারবে না।

১০

সমস্যা:সারাক্ষণ শুধু ব্রেকআপের চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়। পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারতেছি না। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

আমার উত্তর:শুনো, যে প্রেম ব্রেক আপ হয়ে গেছে। সেই প্রেম তোমার জন্য ছিলো না। একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবা- সে ইচ্ছা করে তোমাকে ইগনোর করতো, প্যারা দিতো। তোমাকে প্রায়োরিটি দিতো না, রেসপেক্ট করতো না। বরং সারাক্ষণ আমাদের হবে না। ফ্যামিলি মানবে না। এইসব বলতো। আসলে সে সেইফ সাইডে থাকার চেষ্টা করতো। সুযোগ মতো তোমাকে দোষ দিয়ে, অন্য ঢালে ঝুলে পড়ছে। এখন তুমি কি প্রেম মিস করতেছো? নাকি তোমাকে ইগনোর করা, প্যারা দেয়াকে মিস করতেছো? কার জন্য সময় নষ্ট করতেছো? তোমার অতীতের জন্য না তোমার ফিউচার ধ্বংস করার জন্য?

১১

সমস্যা:ছোটবেলায় এবিউজড হইছি। অনেক লাঞ্ছনার স্বীকার হইছি। এখন অনেক ফ্রাস্ট্রেশন। কোন কিছুই ঠিক মতো করতে পারতেছি না।

আমার উত্তর:এইটা স্যাড যে তোমার সাথে অনেক অন্যায় হইছে। সেটার জন্য এখনো তোমাকে ভুগতে হচ্ছে। আর এবিউজকারীরা হয়তো আরামেই আছে। তবে তুমি চাইলে এইসব খারাপ লাগা থেকে বের হয়ে তোমার ফিউচার ডেভেলপ করার দিকে মনোযোগ দিতে পারো। এখন একটা কথা বলো- এই যে তোমার খারাপ লাগাগুলো, এগুলা কি তোমার পরীক্ষার হলে মনে হয়? না, হয় না। যখন বাস ছেড়ে দিচ্ছে দেখে তুমি বাসে উঠার জন্য দৌড়ে দিচ্ছ, তখন কি এই কথাগুলো মনে হয়? না, হয় না। তারমানে তুমি যখন ব্যস্ত থাকো, প্রেসারে থাকো, তখন তোমার মনে হয় না। যখন রিলাক্স থাকো, ফ্রি থাকো, অবসরে থাকো, তখন মনে হয়। তাহলে এই জিনিসগুলো ভুলে সামনে এগুতে চাইলে- তোমাকে যেকোন দুইটা জিনিস নিয়ে ব্যস্ত হতে হবে। প্রথমত: তোমার পড়ালেখা নিয়ে। তুমি বাসায় এসে প্রতিদিনের পড়া শেষ করবা। নোট বানাবা। সেগুলা ক্লাসমেটদের সাথে শেয়ার করবা। নেক্সট সেমিস্টারে ৩.৫ এর উপরে জিপিএ তুলবা। এইটা তোমার টার্গেট। তারপর পড়ালেখার বাইরে যেকোন একটা জিনিস নাচ, গান, প্রোগ্রামিং, ভলান্টিয়ারিং, কিছু একটা নিয়ে ব্যস্ত থাকবা। তাহলে এই জিনিসগুলা কম মনে পড়বে এবং সামনে এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে।

বারে বারে লাথি দিলে তালা ঠিকই ভাঙ্গবে

বারে বারে লাথি দিলে তালা ঠিকই ভাঙ্গবে, স্বপ্নের দরজাটা একদিন খুলবে। তবে বারে বারে লাথি কিন্তু একটা তালাতেই দিতে হবে। একদিন জেলের তালা, আরেকদিন শপিং মলের তালা আর তার পরেরদিন গার্লফ্রেন্ডের বাসার গেটের তালায় লাথি দিলে কোনটাই খুলবে না। আর লাথি দিতে গেলে যদি মনে ভয় ঢুকে “শেষপর্যন্ত তালা যদি না ভাঙ্গে” বা আমি যে তালাটা ভাঙ্গতে পারলাম না সেটা যদি কেউ দেখে ফেলে। অথবা একসময় আমার নিজেরই পা ব্যথা করা শুরু হবে, তখন আমি কি করবো। এইটা যেই বড় আর ভারী তালা রে ভাই, এইটা মনে হয় ভাঙ্গবে না। সবে মাত্র বিয়ে করেছি। আগে সংসার টা ঘুচাই নেই, ২/৩ বছর সময় যাক। তারপর বাপ বেটা মিলে এক সাথে ভাঙ্গবো। মাসে মাসে ৮৭ হাজার টাকা ডাইরেক্ট ব্যাঙ্কে ডিপোজিট হয়। তালা ভেঙ্গেতো মাসে মাসে এত টাকা পাওয়া যাবে না। আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় অন্তরায় আপনি নিজে। কারণ, বনের বাঘে খায় না, মনের বাঘে খায়। ৯৯% লোক তাদের লক্ষে পৌছতে পারে না, কারণ তারা যাত্রা শুরুই করে না।

উইলিয়াম শেড বলেছেন “A ship in a harbour is safe, but that is not what ships are built for.”

ধরেন, আপনি পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে চান। অন্য কেউ উঠতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গেছে বা মাঝপথে কুকুরে কামড়িয়ে জ্বলাতঙ্ক বাধিয়ে দিয়েছে। সেই ভয় যদি আপনাকে ঘায়েল করে ফেলে তাইলে আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত, পাহাড়ের তলায় ঝালমুড়ি বিক্রি করা। ব্যপারটা এমন না যে, আপনি এক দৌড়ে চূড়ায় উঠে যাবেন বরং চূড়া টা আপনার লং টার্মগোল কিন্তু শর্টটার্ম লক্ষ্য হবে পরবর্তী দশ হাত। এই দশ হাত উঠার পর নেক্সট টার্গেট পরবর্তী পনেরো হাত। তারপর আপনার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী উপরে উঠার স্ট্রাটেজি বা এপ্রোচ এডজাস্ট করবেন। এমনও হতে পারে, মাঝপথে এসে আপনার বাথরুম চেপে গেলো, তখন নিচে নেমে বদনা ভর্তি পানি বা টয়লেট টিস্যু নিয়ে যেতে হলো। এইরকম একাধিক বার আপনাকে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। খুবই কমই কাজ আপনি এক চান্সে ফিনিশ করে ফেলবেন। প্রোগ্রামিং প্রজেক্টে এমন হয় যে মাঝপথে গিয়ে দেখা গেলো এই লেঙ্গুয়েজ বা ফ্রেমওয়ার্ক দিয়ে কাজ হবে না আবার নতুন প্রোগ্রামিং লাঙ্গুয়েজ দিয়ে শুরু করা লাগবে। আপনি প্রথম প্রথম প্রোগ্রামিং শুরু করলে এমন হবে। তবে দ্বিতীয় বার স্টার্ট ওভার করলে আগের জায়গা পর্যন্ত পৌছতে আপনার বেশি সময় লাগবে না। কারণ আপনি জানেন কেম্নে কেম্নে যাইতে হয় আর কি কি চ্যালেঞ্জ ছিলো।

হেনরি ফোর্ড বলেছেন, “Failure is only the opportunity to begin again, only this time more wisely.”

আপনার মূললক্ষ্য কিন্তু ঠিক থাকবে। আপনি দুইদিনে হাল্কা একটু বেশি আগায়ে গেলে বা মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি হলে, আপনি রিলাকটেন্ট হয়ে যান। খালি ৫ মিনিটের ন্যাপ নিতে মন চায় আর তখন কিউট খরগোশ বাবুর মতো ৫ মিনিটের জায়গায় ৫ দিন নাক ঢেকে ঘুমাইলে, কচ্ছবের বাচ্চাতো চ্যাম্পিয়ন হবেই। বেশী আয়েশ করতে গেলে দেখবেন, আপনার ড্রিম অন্যকেউ এচিভ করে ফেলছে। উইল রজার্স বলেছেন, “Even if you are on the right track, you will get run over if you just sit there.” এর বাংলা মানে হচ্ছে, আপনি যদি কনস্ট্যান্টলি আপনার ড্রিম নিয়ে কাজ না করেন, তাইলে অন্যকারো ড্রিম বাস্তবায়নের জন্য আপনাকে কাজ করতে হবে। যাকে আমরা বলি চাকুরি।

আপনার লক্ষ্য কিভাবে হাসিল করবেন সেটার আউটলাইন বানান। প্ল্যান বানিয়ে টাইম নষ্ট করবেন না। কারণ পারফেক্ট প্ল্যান স্বয়ং বিধাতা ছাড়া কেউ বানাতে পারবেন না। পারফেক্ট সময়, পারফেক্ট আইডিয়া, পারফেক্ট মুড বলতে কিচ্ছু কোনোদিন পাবেন না। সেগুলার জন্য চেষ্টা বা অপেক্ষা করে কোনো লাভ নাই। বরং ঝালমুড়ি খান। আর যদি সকল বিপত্তি পেরিয়ে আপনি লক্ষে পৌছে যান, তখন দেখবেন শখানেক এমবিএ গবেষণা করে বের করবে ঐটাই পারফেক্ট টাইম, পারফেক্ট স্ট্রাটেজি এবং পারফেক্ট আইডিয়া ছিলো। কিন্তু এইটা অর্জন করতে আপনাকে কত কত ত্যাগ করা লাগছে, কত চোখের জল প্লাস কপালের ঘাম প্লাস নাকের সর্দি মিশায়ছেন, কতগুলা বিনিদ্র রজনী কাটাইছেন, কতদিন পকেটে টাকা ছিলো না দুপুরে খাবার কেনার বা মেসের ভাড়া দিতে না পারার লজ্জায় হুডির ভিত্তে মুখ ঢেকেছিলেন, সেটা তারা দেখবে না। জন ক্রো বলেছেন, “It takes a strong fish to swim against the current. Even a dead one can float with it.”

আপনি যতোটা মরিয়া হয়ে ঘুমাইতে চান, ততোটা মরিয়া হয়ে কাজ করলে, আপনার লক্ষের অর্ধেক রাস্তা পার হয়ে যেতেন অনেক আগেই। আর দেরী নয়, জাস্ট শুরু করে দেন। পরাজিত হবার ভয়ে আপনি যদি মাঠে খেলতেই না নামেন তাইলে কোনোদিন জিততে পারবেন না। জিততে হলে আপনাকে মাঠে নামতেই হবে। হোচট খাইতেই হবে। আপনার পায়ে চোট লাগলে সেটা কতক্ষণ থাকবে। ১০-২০ মিনিট, ১-২ ঘন্টা, ১-২দিন, ৩-৪ সপ্তাহ নচেৎ ১ বছর। তারপর কিন্তু ঠিকই ব্যথা নাই হয়ে যাবে, ক্ষত শুকিয়ে যাবে, দাগ মুছে যাবে। এই চোট নিয়ে আপনি সারা জীবন বসে থাকতে পারেন বা মাঠে নেমে আবার চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন। Never be afraid to loose…. you cant always win. জর্জ বার্নাড শ বলেছেন, “When I was young, I observed that nine out of ten things I did were failures. So I did ten times more work.”

তাহলে কি খেলা দেখবো না? আমার উত্তর হচ্ছে- না, দেখবেন না। বাংলাদেশের খেলাও দেখবো না? আমার উত্তর হচ্ছে – দেখবেন। তবে কন্ট্রোল করে দেখবেন। ভালো লাগাটুকু, দেশের প্রতি প্রেমের কারণে খোজ খবর রাখবেন। একটু আধটু দেখবেন। পাচ দিন বসে বসে মুড়ি চানাচুর নিয়ে পুরা টেস্ট খেলা দেখার কি দরকার? পুরা খেলা না দেখে হয়তো হাইলাইটস দেখলেন। বছরে দুই একবার মাঠে গিয়ে খেলা দেখলেন। অনেকটা পিকনিকে যাওয়ার মতো। কিন্তু সবদেশের সব খেলা দেখার কি দরকার? ওমুক দেশের তমুক খেলোয়াড় কি করেছে সেটা জেনে আপনার কি লাভ? আপনি দেখবেন ওদের খেলা আর ওরা খেলবে আপনার জীবন নিয়ে খেলা।

অনেক সময় আপনি সঠিক পথে থাকলেও আপনারে জোর করে আপনার লক্ষ্য থেকে দুরে সরায় দিবে। আপনি যেটা ডিজার্ভ করেন সেটা অন্য কেউ ছিনিয়ে নিতে পারে। তখন আপনার কষ্ট লাগবে কিন্তু সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে আবার নামতে হবে। কয়দিন আগে ওয়ার্ল্ডকাপে একজন প্লেয়ারকে পিছন থেকে কিক মেরে মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিছে, তার কোনো দোষ ছিলো না তারপরেও তার স্বপ্ন থেকে তাকে ছিটকে ফেলা হইছে। তাই বলে কি সে খেলা ছেড়ে দিবে। তারপর তার টিম সেমিফাইনালে সবচেয়ে লজ্জাজনক ভাবে হেরেছে। এখন সেই টিম যদি খেলা ছেড়ে দেয় তাইলে আর কোনদিন ওয়ার্ল্ডকাপ জিততে পারবে না। সবভুলে গিয়ে নেক্সট ওয়ার্ল্ডকাপে তাদের নব্য উদ্যমে শুরু করতে হবে। আপনার জীবনে এমন লজ্জাজনক আর হতাশার টাইম আসবে। If you really want to be crowned when someone knock you down, you can’t stay in the ground. আপনাকে কত জোরে কিক মারছে সেটা ইম্পর্টান্ট না। ইম্পর্টান্ট হচ্ছে আপনি কত জোরে কিক ব্যাক করছেন। উইনস্টন চার্চিল বলেছেন “Success is the ability to go from failure to failure without losing your enthusiasm.”

আমাদের অবস্থা হচ্ছে নিজেরেতো নিজে সাহস দিতে পারিই না বরং অন্যেরে সফলতার এমন সব ছুতা বের করি যাতে নিজেরে আরো ঘুটিয়ে রাখা যায়। ও তো আগে থেকে টাকা জমায় রাখছে। তারতো শ্বশুরের পলিটিক্যাল পাওয়ার ছিলো, চ্যালাপ্যালা এসে তালা অর্ধেক ভেঙ্গে দিয়ে গেছে। ওতো ৩ বছর আগে থেকে হ্যাকস’ (hacksaw) ব্লেড দিয়ে তালা কাটা শুরু করছে, এখন অর্ধেকের বেশী কেটে ফেলছে। এখন শুরু করলে তো ওর সাথে পারবো না। আজকে কিছু লোক আপনার কাছ থেকে আগায় থাকবে সেটা বাপের টাকা বা গড গিফটেড ট্যালেন্ট দিয়ে, তবে কালকে তারা আগায় থাকবে কিনা সেটার সিদ্ধান্ত নিবেন আপনি। you cant change your past but u can change your future. দুই তিন বার ট্রাই করার পর ছেড়ে দিলে আপনার পরিচয় হবে লুজার। আর যারা লুজার হিসেবে নিজেরে মেনে নেন তাদের সাকসেস হবার কোনো কারণ নাই। থমাস এডিসন বলেছেন, “Many of life’s failures are people who did not realize how close they were to success when they gave up.”

সাকসেসফুল হবার একটাই কারণ হচ্ছে চেষ্টা। এক বা দুইবার নয় বরং হাজার হাজারবার চেষ্টা। সফল না হওয়া পর্যন্ত চেষ্টা। একেবারে শেষ দেখে নেবার চেষ্টা। যতবার ব্যর্থতা আসবে ততবার সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার শুরু করার চেষ্টা। এক বা দুইবার নয় হাজার হাজার বার ট্রাই করার পর যিনি ইলেকট্রিক বাল্ব আবিস্কার করছেন, তিনি বলেছেন, “I have not failed. I’ve just found 10,000 ways that won’t work.” সো, “বারে বারে লাথি দিলে তালা ঠিকই ভাঙ্গবে, স্বপ্নের দরজাটা একদিন খুলবে।”

www.000webhost.com